শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০২:৪০ অপরাহ্ন

শত কোটির ক্লাবে আলিয়ার ‘গাঙ্গুবাঈ’

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গেল ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে বলিউডের বহুল আলোচিত অটোবায়োগ্রাফিক্যাল সিনেমা ‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’। মুক্তির পর থেকেই বেশ ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। এরইমধ্যে শত কোটির ক্লাবে পৌঁছে গেছে সঞ্জয়লীলা বানসালির সিনেমাটি। অনেকের মতে- এই সিনেমায় ক্যারিয়ার সেরা পারফর্ম করেছেন আলিয়া ভাট।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ভারতের প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’র আয় ৮২ কোটি ৬ লাখ রুপি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে বাকি ২০ কোটি ৬৫ লাখ। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত সিনেমাটির আয় ১০২ কোটি ৭১ লাখ।

‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’ সিনেমাটি মুক্তির আগে কম সমালোচনা হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে গাঙ্গুবাইয়ের ছেলে বাবু রাও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে পতিতা বানিয়ে দিয়েছে সিনেমায়। মানুষ এখন মাকে যা-তা কথা বলছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে গাঙ্গুবাইয়ের নাতনি বলেন, ‘যেখানে আমার দাদি সারাজীবন যৌনকর্মীদের কল্যাণে কাজ করেছেন, সেখানে তারা আমার দাদিকে কীসে পরিণত করে দিয়েছেন! পরিবারের অমতে শুধু অর্থের লোভে তার পরিবারের বদনাম করা হচ্ছে।’

এর আগে গত বছর সিনেমার শুটিংয়ের ওপর স্থায়ী স্থগিতাদেশ চেয়ে বোম্বে দায়রা আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন গাঙ্গুবাইয়ের ছেলে বাবু রাওজি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানসালি ও অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে সমন পাঠিয়েছিলেন আদালত। শুধু তাই নয়, ছবিটির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখন বিচারাধীন।

গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সিনেমাটির টিজারে উঠে এসেছে, সাধারণ এক কিশোরীর নির্মম যৌনপল্লির হর্তাকর্তা হয়ে ওঠার জার্নি। মুম্বাইয়ের কুখ্যাত রেডলাইট এলাকা কামাথিপুরা। সেই এলাকার ‘ম্যাডামজি’ নামে পরিচিত ছিলেন গাঙ্গুবাই।

ষাটের দশকে গোটা কামাথিপুরার কর্ত্রী ছিলেন গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি। খুব অল্প বয়সে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে নামানো হয়েছিল তাকে। এরপর সেই গাঙ্গুবাই হয়ে উঠেছিলেন গোটা কামাথিপুরার হর্তাকর্তা। কিন্তু জোর করে যেসব মেয়েদের এই পেশায় ঠেলে দেওয়া হতো তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন তিনি।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবার হিসাবরক্ষকের সঙ্গে গঙ্গা হরজীবনদাস কাথিওয়াড়িয়া গুজরাট থেকে মুম্বাইয়ে পালিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু প্রেমে ধোঁকা খেতে হয়েছিল এই কিশোরীকে। বিয়ে করেও স্বামী তাকে বিক্রি করে দেয়। ডন করিম লালার একাধিক গ্যাং মেম্বার তাকে বারবার ধর্ষণ করে। তবুও হাল ছাড়েন না গাঙ্গুবাই। শেষমেষ করিম লালার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাকে নিজের বোনের সম্মান দেয় করিম লালা। এরপরই কামাথিপুরায় একটি যৌনপল্লি শুরু করেন গাঙ্গুবাই।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা

এই বিভাগের আরও খবর