সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তৃপ্তি পান ইমরান হোসাইন

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২২

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন চান্দ্রা ইউনিয়নের চান্দ্রা গ্রামে গত শুক্রবার দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হয়।
এ মহতী চিকিৎসা যজ্ঞের উদ্যোক্তা ও আহ্বায়কন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের একজন তরুণ সমাজ সেবক ইমরান হোসাইন মাতুব্বর। আগে থেকেই তার এলাকায় কাজের মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন।

ফ্রি ক্যাম্পিংয়ে ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্ববধায়নে শিশুসহ প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষকে হৃদরোগ ও বক্ষব্যাধি, নাক-কান গলা ও চক্ষু, লিভার ও কিডনীসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এই ক্যাম্পিংয়ে ইসিজিসহ স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়। তারা ইমরান হোসাইনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এখানে বিভিন্ন দুর দুরন্ত থেকে ছুটে আসা এবং চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা আনন্দের সাথে জানান, এরকম উদ্যোগ আমাদের গ্রামে আর কখনও হয়নি। ভবিষ্যতে ইমরান হোসাইন বারবার এরকম মানুষের সেবা দিবে এটাই তাদের কামনা। এখানে স্থানীয় মানুষের সাথে সরেজমিন কথা বলা জানা যায়, এবং বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ আমদের জানিয়েছেন, আমাদের এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই সমস্যা। আমাদের এখানে কোন ভালো হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় আমরা সবাই ঢাকা বা ফরিদপুরে জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। যা অনেক কষ্ট। এখানে অনেক রোগী জানান, আমার শরীরে কিকি সমস্যা আছে তা আমার আগে জানা ছিল না। আমরা হেল্পিং হ্যান্ড অর্গানাইজেশনের ফ্রি ক্যম্পিংয়ের মাধ্যমে অনেক রোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। এবং সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। স্থানীয় জনগণ এই ফ্রি চিকিৎসায় খুবই খুশী। আজ হেল্পিং এন্ড অগ্রানাইজেশন এর এই আয়োজনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই এর আহ্বায়ক ইমরান হোসাইন।
সমাজে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ থাকে। তারা এজন্যই ব্যতিক্রমী কারণ তারা অপরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মাঝেই তাদের জীবনের সার্থকতা লাভ পায়।
ছাত্র জীবন থেকেই তিনি এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেণ তার জীবনের বিভিন্ন দিক এবং এত অল্প সময়ে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেণ তাকে নিয়ে আমাদেও আজকের বিশেষ আয়োজন একজন তরুণ সমাজ সেবকের গল্প।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার চান্দ্রা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসাইন। এলাকার সর্বত্রই এখন আলোচনা এই তরুণ সমাজ সেবককে নিয়ে। নিজে ঢাকা কলেজ থেকে এম এ পাশ করে। বেকার অবস্থায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন এলাকার মানুষের উপকারে। এই তরুণ সমাজ সেবক ছেলেবেলা থেকেই ছিল পরোপকারী। প্রতিবেশীর দুঃখ দুর্দশা দেখে তার মন কেঁদে উঠতো। তিনি সব সময় ভাবতেন প্রতিবেশী অসহায় মানুষকে নিয়ে। নিজের খাবার একজন ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে তুলে দিয়ে তিনি তৃপ্তি পেতেন। তিনি সব সময় ভাবতেন প্রতিবেশী অসহায় মানুষ নিয়ে।
ইমরান হোসাইন বর্তমানে হেল্পিং হ্যান্ড অরগানাইজেশনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এবার একজন দেশপ্রেমিকে গল্প আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো।
মানব সেবা পরম ধর্ম, মানব সেবার প্রতিশ্রুতিতে তরুণ প্রজন্মের প্রবর্তক, সমাজ সেবক, মানব সেবক, শিল্প সাহিত্য নিবেদিত এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন পরম বন্ধুসুলভ মানুষ ও পরোপকারী বিনয়ী ব্যক্তিত্বের এক প্রকাশিত নাম ইমরান হোসাইন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মনের আবেগময়ী নির্লোভ ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, মানুষের সেবা করতে পারলে তিনি নিজেকে ভীষণ গর্বিত মনে করেন। মুলত এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যারা মানব সেবা করেন তারাই প্রকৃত মানুষ। একজন মানুষ প্রকৃত জনসেবার মধ্য দিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। তিনি তার আবেগীয় কণ্ঠে জানিয়েছেন, মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগীতা করে আলোচিত হওয়া যায়। যেমন অর্থ দিয়ে, খাবার দিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে অনেকভাবেই আলোচিত হওয়া যায়। ইমরান হোসাইন জানান, আমার হেল্পিং হ্যান্ড অর্গানাইজেশন কাজের অর্জন করতে চায় মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আর সেসব ব্যক্তিগণ সকল লোভ লালসা অর্থ মোহের উর্দ্ধে থেকে মানব সেবা করে গেছেন। ইমরান হোসাইন তাদেরই একজন অনুসারী হয়ে তার নিজ গ্রামে বেঁচে থাকতে চান। যারা সমাজে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন তারা বিভিন্ন সৎ কর্ম করে আলোচিত হয়েছেন। ইমরান হোসাইন নিজ এলাকায় দলমত নির্বিশেষে সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। শুধু মানুষের সন্তষ্টি নয় সৎ কর্মের মধ্যে দিয়েই একজন মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। একজন মানুষ সর্বদা দয়া দাক্ষিণ্য, ক্ষমা বিণয় সরলতা সাধুতা আত্মসংযম ও সৎ গুণাবলীর অধিকারী হয়ে থাকেন। তেমনি একজন পরোপকারী ন্যায় পরায়ণ, সময়ের গুণাবলী ও সময়্রে শ্রেষ্ঠ সহাসী সন্তান তরুণ উদ্যোক্তা আয়োজক মানব সেবার প্রতিশ্রুতিতে তরুণ প্রজন্মের প্ররোচক সমাজ সেবক শিল্প সাহিত্য নিবেদিত একটি নাম ইমরান হোসাইন। তিনি তার চান্দ্রা গ্রামের মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছেন।
ইমরান হোসাইন হেল্পিং হ্যান্ড অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনেক কিছু করতে চান। তিনি এলাকার যুব সমাজকে নিয়ে আরো অনেক দুর এগিয়ে যেতে চান। তিনি জানান, এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যদি না আমার যুবক ভাইয়েরা বা আমার স্থানীয় মুরব্বীরা এই উদ্যোগকে সহযোগতী না করতো। তিনি ভবিষ্যতে এই সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশের যুব সমাজকে উদ্ধুদ্ধ করতে চান যে তাকে অনুসরণ করে সবাই যেন এরকম মানুষের সেব দিয়ে যেতে পারে। তিনি আরো জানান, সারা দেশী ব্যাপী কমিটি বা এজেন্ডার মাধ্যমে তার এই কর্ম যজ্ঞকে মানুষের মাধ্যমে আরো নতুন নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন আরো অনেক অনেক চমক নিয়ে তিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান। তার রয়েছে একদল চৌকস কর্মী। যারা মানুষের সেবা দিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করেন। আত্মতৃপ্ত পান। স্থানীয় মানুষ আমাদের জানিয়েছেন এত অল্প সময়ে সুন্দর সার্থক আয়োজন ইমরান হোসাইন সম্পন্ন করেছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানান।

ইমরান হোসাইনের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার দিন শত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও আজিম উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙ্গা থানা, ফরিদপুর তিনি ছুটে এসে ইমরান হোসাইনের প্রশংসা করেছেন, তাকে এই ফ্রি মেডিকেল সার্ভিসে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এরকম ইমরান হোসাইন সরকারের পাশাপাশি হেল্পিং এন্ড অর্গানাইজেশনের মতো সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের সেবা দিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা এবং শুভ কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, ইমরানের এই সাহসী পদক্ষেপ সত্যিই দেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এই সেবা দান অব্যাহত থাকুক এই কামনাই করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর