বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

মধ্যবিত্ত তরুণীদের পছন্দ থ্রি-পিস

  • প্রকাশিত : বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মার্কেট-শপিংমলে পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের নানা ধরনের ট্রেন্ডি পোশাক। বেশ কয়েক বছর ধরেই সারারা ও গাউন ছাড়াও ঘারারা, বার্বি গাউন, প্যাবলন, লেহেঙ্গাসহ রেডিমেড পোশাক তরুণীদের পছন্দের জায়গা দখল করেছে। তবে এসব পোশাকে ঝোঁক বেশি উচ্চবিত্তদের।

কিন্তু যখন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণীদের পছন্দের বিষয়টি উঠে আসে, সেখানে এখনো এগিয়ে রয়েছে নানা ধরনের থ্রি-পিস। বিশেষ করে পাকিস্তানি লনের মধ্যে হাতে কাজ করা থ্রি-পিসগুলো তারা কিনছেন বেশি। সেলাই করা ও সেলাই ছাড়া এসব থ্রি-পিসের দামও নাগালের মধ্যেই।

ঈদকে ঘিরে রাজধানীর তালতলা সুপার মার্কেট, রামপুরা মার্কেট ও বাড্ডার মার্কেটগুলোতে মধ্যবিত্ত ক্রেতা সমাগম বেশি দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে এসব মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তালতলা মার্কেটের রাজধানী বস্ত্র সম্ভার থেকে তিনটি থ্রি-পিস কিনেছেন ফরিহা সুমা। তিনি বলেন, অন্যকিছু কিনলে সেটা ঈদেই শুধু পড়া যায়। কিন্তু থ্রি-পিস সবসময় লাগে। থ্রি-পিসের বিকল্প নেই। সেজন্য নিলাম। ঈদও কাটলো, আবার অন্য সময়ও সেটা ব্যবহার করা যাবে।

সেলিনা রহমান নামের অরেক ক্রেতা বলেন, মধ্যবিত্তদের হিসাবের বাইরে কিছু করাটা কঠিন। সেজন্য পোশাক কেনার সময়ও সেটা খেয়াল রাখতে হয়। একদিনের জন্য দামি পোশাক কেনা আমাদের জন্য বিলাসিতা।

ওই মার্কেটের বড় দোকানগুলোর মধ্যে অন্যতম রাজধানী বস্ত্র সম্ভার। দোকানের স্বত্বাধিকারী ওয়াসিম হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরেই মধ্যবিত্তের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রি-পিস। বিশেষ করে পাকিস্তানি লন থ্রি-পিসগুলো বেশি চলছে। এবছর লনের মধ্যে হাতের কাজ বেশি পছন্দ সবার। এছাড়াও জরির কাজের থ্রি-পিস বেশি চলছে।

এসব থ্রি-পিসের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য পোশাকের তুলনায় এগুলো সাশ্রয়ী। এক হাজার ২০০ থেকে খুব ভালো মানের থ্রি-পিস ৪ হাজারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেড় থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে লনের থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে বেশি।

বিক্রেতারা আরও বলছেন, শুধু উৎসব নয়, গ্রীষ্মের গরম পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ঈদের পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। মধ্যবিত্ত তরুণীদের কাছে প্রাধান্য পেয়েছে উজ্জ্বল রং ও হাতের কাজের ডিজাইন। এথনিক, ট্রেডিশনালের পাশাপাশি নতুন ডিজাইনের পোশাকও কিনছেন তারা। থ্রি-পিসগুলোর মধ্যে লনের পাশাপাশি কটন, টিস্যু, মসলিন, জর্জেট, সিল্ক ও চায়না কটন বিক্রি হচ্ছে।

থ্রি-পিসের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণীরা সারারা, ঘারারা, বার্বি গাউন বা লেহেঙ্গা যে একেবারে কিনছেন না, তা নয়। এসব মার্কেটে সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস দেড় হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এসব পোশাক।

বাড্ডা হোসেন মার্কেট থেকে গাউন কিনেছেন সফিকুজ্জামান নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, মেয়ের খুব শখ, তাই কষ্ট করে হলেও বেশি দাম দিয়েই কিনে দিলাম।

অন্যদিকে থ্রি-পিসের পাশাপাশি এবারের ঈদে ওয়ান-পিস ও টু-পিসের বিক্রিও ভালো। ওয়ান-পিসের ক্ষেত্রে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর পোশাকের কাটতি বেশি। নিজস্ব বুটিক হাউসে বানানো ওয়ান-পিসগুলো কিনে এর সঙ্গে পাজামা ও ওড়না ম্যাচিং করে কিনছেন তরুণীরা।

অপ্রা নামের এক কলেজশিক্ষার্থী বলেন, অনন্যা থেকে একটি ওয়ান-পিস কিনেছি। এখন মাচিং করে অন্যান্যগুলো নিচ্ছি। ওয়ান-পিস নিলে কমের মধ্যে হয়ে যায়।

অন্যদিকে পাকিস্তানি টু-পিসের বড় সম্ভার নিয়ে এসেছে ফিউচার জোন বিডি নামের একটি ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমির আরাফাত বলেন, পাকিস্তান আগানুর টু-পিসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবছর। তরুণীরা আরামদায়ক এ পোশাক কিনছেন বেশি।

পাকিস্তানি বিভিন্ন পোশাকের প্রতি তরুণীদের দুর্বলতার বিষয়টি বলেন আরও কয়েকজন বিক্রেতা। ক্রেতাদের সেটি খুঁজতে দেখা গেছে। তালতলা বাজারে কয়েকটি দোকানে পাকিস্তানি আরগাঞ্জা থ্রি-পিস খুঁজছিলেন নাফিসা মুস্তারী। তিনি বলেন, এক বান্ধবী আরগাঞ্জা কিনেছে। সেটা দেখে ভালো লেগেছে, তাই দেখছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতীয় ও চীনের থ্রি-পিসও রয়েছে। সেগুলোও ভালো বিক্রি হচ্ছে এবার।

এই বিভাগের আরও খবর