রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

আবারও কলকাতা মাতালো ঢাকার চলচ্চিত্র

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২

কলকাতার রবীন্দ্র সদনে চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

আবারও কলকাতা মাতালো ঢাকার চলচ্চিত্র। গেল শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ৮০০ বছরের পুরনো শহর কলকাতার রবীন্দ্র সদনে চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবের প্রথম দিনে প্রদর্শিত হয় ‘হাসিনা এ ডটার’স টেল, ‘হাওয়া’, ‘পরান’ এবং ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। শনিবার সকাল থেকে নন্দনে ভিড় যেন নতুন করে বাংলাদেশকে সবার সামনে তুলে ধরল। মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ ঝড় তুলল পুরো কলকাতায়। আশ্চর্য হলেও সত্য, এই সিনেমা দেখার জন্য আড়াই ঘণ্টা আগে থেকেই ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল দর্শক। নন্দনে শো শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে, কিন্তু বেলা ১১টা ১৫ মিনিট থেকেই দর্শকের লম্বা লাইন নন্দন ছাড়িয়ে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালার সামনে দিয়ে ঘুরে গেছে। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল হাওয়া দেখার প্রশান্তি। পরের ৬টা শো দেখতেও ভিড় লেগেছিল নন্দনে।

চঞ্চল চৌধুরীর ‘হাওয়া’ দেখার জন্য কলকাতা দর্শকদের এমন আগ্রহ বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব করার মতো। চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের আলোচিত ছবি ‘হাওয়া’। টানা তিন মাস ধরে দেশের সিনেমা অঙ্গনে আলোচনার শীর্ষে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ছবিটি নিয়ে কলকাতায় রীতিমতো হুল্লোড়। কলকাতার বেশকিছু সিনেপ্রেমী দর্শক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তারা বলছেন, নিকট অতীতে কোনো সিনেমা দেখতে কলকাতাবাসীর এমন আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। এদিন উদ্বোধনের সময় মঞ্চে এসে ‘হাওয়া’ নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের নায়ক প্রসেনজিৎ। তিনি বলেন, ‘হাওয়া’ হলে এসে দেখব, এটার জন্য আমিও আপনাদের মতো মুখিয়ে ছিলাম। কারণ এটি বাংলা ভাষায় নির্মিত ছবি, বাংলাদেশের ছবি। নন্দনে আসার আগে দেখছিলাম, ‘হাওয়া’ দেখতে মানুষের লম্বা লাইন। এটা দেখে খুব গর্ব হলো। এ সময় তিনি ‘মনের মানুষ’ চঞ্চল চৌধুরীকে ডেকে মঞ্চে তুলেন। হলভর্তি দর্শক তখন হাততালি ও চঞ্চলের নামে স্লোগান দিতে থাকে। তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। মঞ্চে উঠে প্রসেনজিৎকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন চঞ্চল। সেই সঙ্গে জানান নিজের অনুভূতির কথা।

ওইদিন বিকাল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেই সঙ্গে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং বিশেষ অতিথি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে কলকাতার এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমসহ অনেকেই। আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাইমুম সারোয়ার কমল, উপ-রাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াসসহ বিশিষ্টজনেরা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অতিথিদের বরণীয় উত্তরীতে আগামী কয়েক দিনে প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলাদেশি সিনেমাগুলোর নাম উল্লেখ ছিল। উদ্বোধনী ভাষণে
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি যেন কাঁটাতারের বেড়ায় আবদ্ধ হয়ে না যায়। শিল্পীদের ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। উত্তম-সুচিত্রা শুধু ভারতের নন, তাঁরা বাংলার, তাঁরা আমাদেরও। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও মনের দিকে দূরত্ব নেই আমাদের। ছবি নিয়ে দুই বাংলা যদি যৌথভাবে কাজ করতে পারে তাহলে সব ছাড়িয়ে যাবে সেই ছবি। সে জন্য দুই বাংলাকে উদ্যোগী হতে হবে।’ জয়া বলেন, ‘শিল্পের, সিনেমার দেশ হয় না। খুব ভালো লাগছে। ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।’ পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘এপার আর ওপার বাংলার মানুষেরা চাইলেও ছবি সেভাবে পৌঁছে যাচ্ছে না। তার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চলচ্চিত্র উৎসবের’। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গৌতম ঘোষ যে তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন, তা খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘বাংলার গান’ গেয়ে শুনিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয় আর বাংলাদেশের শিল্পী সাব্বির। মঞ্চে দাঁড়িয়েই মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বাবুল সুপ্রিয়র হাতে পাঞ্জাবি তুলে দেন, বাবুল সুপ্রিয়র স্ত্রীর জন্য দিয়েছেন জামদানি। তুলে দেওয়া হয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতীক নৌকা। গৌতম ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয় কিছু বই। পাঁচ দিনব্যাপী এ চলচ্চিত্র উৎসবে নন্দন-১, ২ ও ৩-এ ৩৭টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে ২৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ৪টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র এবং ৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর